সালামুন কাওলাম মীর রাব্বীর রাহীম

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় পাঠক আপনারা অনেকে রয়েছেন যারা প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে ফজরের নামাজ পড়ে কুরআন তেলাওয়াত করেন এবং সূরা ইয়াসিন পাঠ করেন। পবিত্র কোরআনের সূরা ইয়াসিন কুরআনের প্রাণ বলা হয়। কোন ব্যক্তি যদি সহি এবং শুদ্ধ করে একবার সূরা ইয়াসিন পাঠ করে তাহলে ১০ বার কোরআন তেলাওয়াতের সওয়াব পাওয়া যায়। আজকের আর্টিকেলে আমরা সূরা ইয়াসিনের এমন একটি আয়াত সালামুন কাওলাম মীর রাব্বীর রাহীম। 
সালামুন কাওলাম মীর রাব্বীর রাহীম

আপনারা অনেকেই রয়েছেন যারা সালামুন কাওলাম মীর রাব্বীর রাহীম এর ফজিলত সম্পর্কে জানতে চান। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাকসালামুন কাওলাম মীর রাব্বীর রাহীম।  কেউ যদি প্রতিদিন সালামুন কাওলাম মীর রাব্বীর রাহীম এই দোয়াটি পাঠ করে তাহলে কি ফজিলত পাবে বিস্তারিত জানতে আজকের আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

সূরা ইয়াসিন

পবিত্র কুরআনের সূরা ইয়াসিন এমন একটি সূরা যাকে কোরআনের প্রাণ বলা হয়। এক হাদীসে বলা হয়েছে কেউ যদি এবং শুদ্ধভাবে সূরা ইয়াসিন পাঠ করে তাহলে ১০ পারা কোরআন তেলাওয়াতে সাওয়াব দেওয়া হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন কোন ব্যক্তি যখন রাত্রে ঘুমাতে যায় আর সে যখন সূরা ইয়াসিন পড়ে ঘুমাতে যায় এবং সে যখন সকালে ঘুম থেকে উঠে সে যেন নিষ্পাপ হয়ে ঘুম থেকে উঠে ।

আরো পড়ুনঃসালামুন আলা নুহিন ফিল আলামিন

আবার বলা হয়েছে কোন মুমূর্ষ ব্যক্তি যার এমন অবস্থা যেন সে যে কোন সময় মারা যাবে এমন ব্যক্তির সামনে সূরা ইয়াসিন পাঠ করার কথা বলা হয়েছে।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সুরা ইয়াসিনকে কুরআনের কলবের সাথে তুলনা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন মানুষের শরীরের ভিতরে একটি মাংসপিণ্ড আছে যেটি ভালো থাকলে তার সমস্ত মাংসপিণ্ড ভালো থাকে আর সেই মাংসপিণ্ড যদি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে তার সকল মাংসপিণ্ড নষ্ট হয়ে যায় কলভ।

আল্লাহ তাআলা বলেন কোন ব্যক্তি যদি প্রতিদিন সূরা ইয়াসিন পাঠ করে তাহলে আল্লাহ তাআলা তার সকল চাহিদা পূরণ করে দেয়। সূরা ইয়াসিন কে বিভিন্ন নামে বলা হয় হয়ে থাকে।সূরা ইয়াসিনে রয়েছে ৮৩ টা আয়াত ৫ টা রুক্র এবং ৭ টা মুবিন  রয়েছে । সূরা ইয়াসিন পাঠের অনেক ফজিলত রয়েছে  যা আল্লাহ তালা পবিত্র  কোরআনে সূরা ইয়াসিনের মধ্যে প্রকাশ করেছেন।

ইয়াসিন সূরা

সূরা ইয়াসিন কোরআনের ৩৬ তম মাক্কী সূরা।ইয়াসিন সূরার আয়াত  সংখ্যা ৮৩ টা এবং রুকু আছে ৫ টি এবং মুবিন আছে ৭ টা ।সূরা ইয়াসিন পবিত্র কোরআনের ২২ ও ২৩ পারায় অবস্থিত। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুয়ত লাভের প্রথম দিকে এবং হিজরতের বহু আগেই মক্কায় এই সূরা ইয়াসিন অবতীর্ণ হয়েছে। সূরা ইয়াসিন থেকে পবিত্র কোরআনের বিশাল অর্থ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

ইয়াসিন হল দুটি আরবি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। ইয়াসিন শব্দের সঠিক অর্থ একমাত্র আল্লাহ তালাই নিজেই ভালো জানেন। ইয়াসিন সূরাটি দুটি আরবি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত ইয়া  এবং সিন এ দুটি শব্দ মিলেই ইয়াসিন সূরাটির নামকরণ করা হয়েছে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় দ্বীন প্রচার করতেন এবং প্রায় শেষের দিকে সুরা ইয়াসিন নাযিল হয়।


নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুরা ইয়াসিন  নাবুওয়াত লাভ করার পর নাযিল হয়। সুরা ইয়াসিনের মূল বিষয়বস্তু হলো, তাওহীদ , রিসালাত , আখিরাত, সম্পর্কে সূরা ইয়াসিনের আলোচনা করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে সূরা ইয়াসিন পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা তার জীবনের সমস্ত গুনহা মাফ করার কথা বলেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন "যে ব্যক্তি আল্লাহতালা সন্তুষ্টি লাভের জন্য রাতে শুই ইয়াসিন পাঠ করবে আল্লাহ তা'আলা তাকে নিষ্পাপ হিসেবে ঘুম থেকে তুলবে ইনশাল্লাহ।

সূরা ইয়াসিন এর ফজিলত  

সুরা ইয়াসিন এর ফজিলত , গুরুত্ব ও ,মহাত্ন্য বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। এই সূরার ফজিলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম অসংখ্য হাদিস বলেছেন নিজে এর কিছু ফজিলত দেয়া হলোঃ

"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন সুরা ইয়াসিন হচ্ছে কোরআনের হৃদপিণ্ড বা হৃদয়"

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম আরো বলেছেনঃ" যে ব্যক্তি সূরা ইয়াসিন একবার পাঠ করবে আল্লাহ তা'আলা তাকে পুরো কোরান পড়ার সমান সওয়াব দান করবেন" "সুবহানাল্লাহ"

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেনঃ "সূরা ইয়াসিন হচ্ছে গুনাহ মাফের সূরা"

সানান অববি দাউদ এর একটি হাদিসে বলা হয়েছেঃ" যারা মৃত্যুবরণ করেছে তাদের ওপর ইয়াসিন পাঠ করো।

হযরত আবু জর (রাঃ) এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃত্যু পথযাত্রী ব্যক্তির কাছে সুরা ইয়াসিন পাঠলে তার মৃত্যুর যন্ত্রণা সহজ হয়ে যায়।

হযরত আতাবিন আবি রাবাহ (রাঃ) এবং হতে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেনঃ "যে ব্যক্তি দিনের বেলায় সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করবে আল্লাহ তা'আলা তাঁর হাজত পূরণ করে দিবে"(শুনানে দারেমিঃ৩৪৬১)

হযরত আব্দুল ইবনে জুবায়ের রাঃ বলেন" যে ব্যক্তি অভাব অনাটনের সময় সুরা ইয়াসিন পাঠ করবে আল্লাহ তা'আলা তাঁর অভাব দূর করে দিবেন এবং সংসারে শান্তি এবং রিজিক বরকত লাভ করবে"

তাছাড়া পবিত্র কুরআনে সুরা ইয়াসিন আরও অনেক ফজিলত রয়েছে। সেজন্য আমাদের নিয়মিত সূরা ইয়াসিন পাঠ করা জরুরী।

সালামুন কাওলাম মীর রাব্বীর রাহীম এর ফজিলত

সূরা ইয়াসিনের সালামুন কাওলাম মীর রাব্বীর রাহীম এই আয়াতটি যদি কেউ  নিয়মিত পাঠ করে তাহলে তার সকল বিপদ এবং সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। আমরা প্রতিনিয়ত কোন না কোন সমস্যা এবং চিন্তায় থাকি এবং দূরচিন্তা করি এ সকল সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সূরা ইয়াসিনের সালামুন কাওলাম মীর রাব্বীর রাহীম এই আয়াতটি আমাদের সকল অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

সালামুন কাউমাল মীর রাব্বির রাহিম ইনশাআল্লাহ এই আমলটি খুবই পরীক্ষিত এবং সফল হওয়ার মতো একটি আমল। এই আমলের ফজিলত সম্পর্কে বলতে গেলে শেষ হবে না। এই আমলটি যদি আপনি ৪১ দিন করতে পারেন তাহলে আপনার জীবনে আর কোন কিছুর অভাব থাকবে না। সালামুন কাওলাম মীর রাব্বীর রাহীম এই আয়াতটি যদি কোন ব্যক্তি ৪১ দিন একই স্থানে এবং একই সময় পাঠ করেন তাহলে আল্লাহর রহমতে তার কাছে আল্লাহর উপর থেকে রহমত নাযিল হবে।

আরো পড়ুনঃম দিয়ে দুই অক্ষরের মেয়েদের

আর এই আমলটি করার পূর্বে আপনাকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে এবং সব সময় পবিত্র থাকতে হবে। শরীরের সুগন্ধি ব্যবহার করতে হবে । আর আমল করার পূর্বে অবশ্যই কিছুই দান সদকা করে নিতে হবে। সালামুন কাওলাম মীর রাব্বীর রাহীম আমলটি করার পূর্বে অবশ্যই আপনাকে সকল প্রকার নেশা থেকে বিরত থাকতে হবে। সালামুন কাওলাম মীর রাব্বীর রাহীম এই দোয়াটি আমল করার পূর্বে অবশ্যই আপনাকে আপনার শরীর বন্ধ করে নিতে হবে।

সালামুন কাওলাম মীর রাব্বীর রাহীম এই দোয়াটি একচল্লিশ দিন পাঠ করা কালীন আপনার বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন কিন্তু সেই সমস্যায় ভয় পাওয়া যাবে না। সুরা ইয়াসিনের ৫৮ নম্বর আয়াতে  সালামুন কাওলাম মীর রাব্বীর রাহীম এই দোয়াটির কথা বলা হয়েছে। আর এই আমলটি এমন জায়গায় করবেন যেখানে বা যে ঘরে কেউ যেন আর না যায় আমল চলাকালীন সময়ে আপনি ওই ঘর থেকে বাহির হবেন না কারণ বিভিন্ন বিপদের সম্মুখীন হতে পারেন।

সালামুন কাওলাম মীর রাব্বীর রাহীম এই আমলটি যদি আপনি ৪১ দিন পাঠ করেন ইনশাল্লাহ আপনার সকল সমস্যা দূর হয়ে যাবে। হাদিসে রয়েছে সেই ব্যক্তি উত্তম যারা এশার নামাজের পর সূরা ইয়াসিন পাঠ করে । সালামুন কাওলাম মীর রাব্বীর রাহীম যেহেতু সূরা ইয়াসিনের একটি আয়াত। আর পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে সুরা ইয়াসিন হচ্ছে কোরআনের প্রাণ। সালামুন কাওলাম মীর রাব্বীর রাহীম আয়াতটি সূরা ইয়াসিন এর অন্তর। 

মুমিন ব্যক্তিদের পবিত্র আত্মার প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সালাম । এশার নামাজের পর কেউ যদি ৭ বার সালামুন কাওলাম মীর রাব্বীর রাহীম পাঠ করে ঘুমাতে যায় তাহলে আল্লাহর রহমতে  স্বপ্নযোগে অলি আউলিয়াদের সাথে সাক্ষাৎ লাভ করতে পারেন। সূরা ইয়াসিনের সালামুন কাওলাম মীর রাব্বীর রাহীম এই আয়াতটি সবার জন্য মঙ্গলজনক।

লেখকের শেষ কথা

আপনারা যারা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন প্রতিনিয়ত হচ্ছেন তারা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ুন এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে সকল বিপদ এবং মুসিবত থেকে দূরে থাকার জন্য আল্লাহর কাছে রহমত প্রার্থনা করুন। সকল প্রকার বিপদ এবং মুসিবত থেকে বেঁচে থাকার জন্য সালামুন কাওলাম মীর রাব্বীর রাহীম আয়াতটি বেশি বেশি করে পাঠ করুন তাহলে দেখা যাবে ইনশাল্লাহ আপনি সকল সমস্যা থেকে দূরে আছেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

তৌহিদ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url